‘নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইআরআইডিপিএনএফএল) বিপরীতে সপ্তম বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুকের নিলামে প্রায় ১১ দশমিক ৪৯ গুণ আবেদন জমা পড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সুকুকটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় আবেদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় নির্ধারিত আনুপাতিক হারে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে সুকুক বরাদ্দ দেয়া হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তথ্যানুসারে, নিলামে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের সাত বছর মেয়াদি ইজারা সুকুক (বার্ষিক ৯.৬০ শতাংশ ভাড়া হারে) ইস্যুর বিপরীতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক ব্রাঞ্চ উইন্ডোসহ ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রভিডেন্ট ফান্ড মোট ২৮ হাজার ৭২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার আবেদন জমা দিয়েছে।
সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর তারল্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারছে। সুকুকের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্যও শরিয়াহভিত্তিক ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো তাদের ক্রয়কৃত সুকুক বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামিক ব্রাঞ্চ ও উইন্ডোজ তাদের ধারণকৃত সুকুক জামানত রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সুবিধা (আইবিএলএফ) গ্রহণ করতে পারবে।
প্রাইমারি নিলামে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামিক ব্রাঞ্চ ও উইন্ডোসহ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুকুক বরাদ্দ করা হলেও সব তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে এ সুকুক কিনতে পারবে। উল্লেখ্য, ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স প্রভৃতি শ্রেণীতে মোট ২৫৮টি আবেদন দাখিল করা হয়েছে।